Nurul Amin Bepari sir exam topic

 

(Q:1)) সমালোচনা সহকারে প্লেটোর ন্যায়বিচার সম্পর্কে আলোচনা করো

ভুমিকাঃ প্লেটোর ন্যায়বিচার তত্ত্ব পাওয়া যায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “The Republic”-এ। এটি প্লেটোর ন্যায়ধর্ম তত্ত্ব বা শুধু ন্যায়তত্ত্ব নামেও পরিচিত। প্লেটো পূর্বোক্ত সকল মতবাদের বিরোধিতা করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, “ন্যায়ধর্ম কোন চুক্তি বা প্রথার ফল নয়, বরং এটা মানুষের যাতনা থেকে উদ্ভূত এবং অন্তর্মুখী তিনি আরও বলেছেন যে, মেষপালকের ধর্ম যেমন মেষপালের যত্ন নেওয়া, চিকিৎসকের ধর্ম যেমন রোগীকে রোগমুক্ত করা, তেমনি ন্যায়ধর্ম শাসকের ধর্ম শাসিতের কল্যাণ বিধান করা।

প্লেটোর ন্যায়বিচার তত্ত্ব আলোচনাঃ প্লেটোর ন্যায়বিচার ধারণা বাহ্যিক বা কৃত্রিম কিছু নয় তা মানব প্রকৃতির মধ্যে নিহিত মানবাত্মারই স্বরূপ। তাঁর মতে, ন্যায়বিচারের ধারণা আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা পরস্পর ঘনিষ্ঠ একের ভিতর দুই। বস্তুত ন্যায়বিচার অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি ব্যক্তি রাষ্ট্রের জীবনে কোন প্রভেদ দেখতে পান নি। ব্যক্তি জীবনে যা ন্যায়বিচার রাষ্ট্রীয় জীবনেও তা ন্যায়বিচার।

প্লেটোর মতে, ন্যায়বিচার এমন একটি গুণ যা অন্যান্য গুণ বা প্রজ্ঞা, সাহস মিথ্যাচার ইত্যাদি বাদ দিলেও আদর্শ রাষ্ট্রে বিরাজ করে। আদর্শ রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণী যখন তাদের নিজস্ব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে এবং একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না তখনই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

কোন ব্যক্তির জীবনে বিভিন্ন উপাদানের সুষ্ঠু সমন্বয় সঠিক বিন্যাসের নাম যদি ন্যায়বিচার হয় তাহলে রাষ্ট্রীয় জীবনেও তাই হবে। অর্থাৎ, ন্যায়বিচার রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে দার্শনিক, যোদ্ধা, উৎপাদক শ্রেণী তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিজ নিজ কাজে নিয়োজিত থেকে রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষা করবে।

সংক্ষেপ প্লেটোর ন্যায়বিচার বলতে বুঝায় যে, অপরের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না কর স্বীয় কাজে নিমগ্ন হওয়ার ইচ্ছা। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি শারীরিক মানসিক দিক থেকে যে কাজ করতে আগ্রহী তাকে সে করতে দেওয়ার মধ্যেই ন্যায়বিচার নিহিত।

প্লেটোর ন্যায়বিচারের বৈশিষ্ট্য

প্লেটোর ন্যায়বিচারের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে সেসব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-

. স্থান নির্ধারণ: স্থান নির্ধারণ হলো প্লেটোর ন্যায়বিচারের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য। তার মতে ন্যায়বিচার প্রত্যেক মানুষের জন্য সমাজে তার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেয়। এই নির্ধারণের ভিত্তি হলো তার প্রকৃতিগত শিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত যোগ্যতা।

. সামাজিক বন্ধনঃ প্লেটোর ন্যায়বিচারের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সামাজিক বন্ধন স্বরূপ। এই বন্ধন সমাজকে সুসংহত করে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকদিগকে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ করে।

. যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মবিভাগ: প্লেটোর ন্যায়বিচার প্রত্যেকের জন্য প্রকৃত যোগ্যতা শিক্ষার ভিত্তিত সমাজে তার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে দেয়। 

. বিরোধহীন ন্যায়বিচারঃ প্লেটোর ন্যায়বিচার হলো বিরোধহীন ন্যয়। তাই এই ন্যায়বিচারের ন্যায় ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রকৃতির মধ্যে কোনো মৌলিক বিরোধ তৈরি করে না। ফলে এই ধারণা একটি বিরোধহীন ধারণা।

. আধ্যাত্মিক পদ্ধতি: এটি ব্যক্তিসংঘাত শ্রেণীসংঘাতের জন্ম দেয় না। কারণ এটি আধ্যাত্মিক পদ্ধতি।

. চারিত্রিক বিকাশঃ চারিত্রিক বিকাশ হলো প্লেটোর ন্যায়বিচারের অন্যতম দিক। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তির কর্মজীবনে যে নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয় তার ফলে উক্ত ব্যক্তির চারিত্রিক জীবনের বিকাশ ব্যাহত হয় না; বরং পরিপূর্ণতা লাভ করে।

. সৎ মানুষে রূপান্তরিত করেন্যায়নীতি শুধু পূর্ণ সৎ নাগরিকই সৃষ্টি করে না, বরং তা ব্যক্তিকে সৎ মানুষে রূপান্তরিত করে।

. সততাঃ সততা প্লেটোর ন্যায়বিচারের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য। প্লেটোর মতে, ন্যায়বিচার মানুষকে শুধু পূর্ণ বা সৎ নাগরিকেই পরিণত করে না, তাকে সৎ মানুষেও পরিণত করে। তার ন্যায়বিচারে সততার পরিচয় মেলে।

. রাষ্ট্রীয় নৈতিক জীবন একইন্যায়বিচারের নীতি অনুসারে রাষ্ট্রীয় নৈতিক জীবনে কোন পার্থক্য নেই।

১০. শিল্পকৌশল: ন্যায়বিচার একটি শিল্পকৌশল। অন্যান্য শিল্পের মত ন্যায়বিচারের অনুশীলন উৎকর্ষতা লাভ শিক্ষার মাধ্যমে সম্ভব।

১১. স্থাপত্য শিল্পঃ স্থাপত্য শিল্প প্লেটোর ন্যায়বিচারের সর্বশেষ গুণ। তার ন্যায়বিচারের চরিত্র স্থাপত্য শিল্পের অনুরূপ। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তিনি ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন তা তার স্থাপত্যমূলক শিল্পেরই বহিঃপ্রকাশ।

 

 

সমালোচনাঃ নিম্নে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তার ন্যায়ধর্মতত্ত্বের সমালোচনা করা যায়ঃ

() গণতন্ত্র বিরোধীঃ প্লেটো শাসন ক্ষমতা, দার্শনিক রাজার হাতে সমর্পন করে - অভিজাততান্ত্রিক সরকার গঠনে সমর্থন করেছেন। ক্ষেত্রে তিনি বর্তমান বিশ্বের প্রায় অপরিহার্য শাসন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের প্রতি বিরূপ ধারণা পােষণ করে, এর বিরোধী মতামত গ্রহণ করেছেন।

() ব্যক্তিস্বাধীনতা বিরোধীঃ প্লেটোর ন্যায়বিচার ব্যক্তি স্বাধীনতার চরম বিরোধী। তিনি রাষ্ট্রের কল্যাণের কথা ভেবে রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে সুসংহত করতে গিয়ে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে পদদলিত করেছেন, যা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ মানবতার পরিপন্থী।

() নাগরিক অধিকার উপেক্ষিতঃ প্লেটো নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তার ন্যায়বিচারে কিছু না বললেও তিনি তার মূল পরিকল্পনায় সাধারণ নাগরিকদের মূলত উৎপাদক শ্রেণীভুক্ত করেছেন এবং এসব নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

() নৈতিক মূল্যের প্রাধান্যঃ প্লেটো নৈতিক মূল্যের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে তাঁর রাষ্ট্রতত্ত্ব নীতিশাস্ত্রের গণ্ডি অতিক্রম করতে পারেনি। নৈতিক মূল্যের দোহাই দিয়ে তিনি এক অনৈতিক অন্যায় সমাজব্যবস্থাকেই সমর্থন করেছেন।

পর্যালোচনা: প্লেটোর ন্যায়বিচারের তত্ত্বের নানা দিক থেকে সমালোচনা করা হলেও তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে আরো যুক্তি দেওয়া যায়। প্লেটোর সময় গ্রীক সমাজে যে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে তাকে রক্ষা করতে হলে প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার প্রতি আনুগত্যের প্রয়োজন ছিল। আদর্শ রাষ্ট্রের মধ্যে যাতে বিভেদ সৃষ্টি না হয় তার জন্য ন্যায়বিচারকে শক্ত হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের পক্ষপাতী ছিলেন প্লেটো। 

উপসংহার: একটি আদর্শ রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার কিরূপ হওয়া দরকার সে সম্বন্ধে প্লেটো ব্যাপক অনুসন্ধান করেছিলেন। প্লেটো শ্রমভিত্তিক যে শ্রেণি বিভাগ করেছেন তা বর্তমান রাষ্ট্রের শ্রম বিভাজন নীতির সমার্থক মনে করা যেতে পারে। প্লেটো যে নৈতিকতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন নীতির দিক থেকে তার গুরুত্বও যথেষ্ট। নীতিবোধের দ্বারা পরিচালিত হয়ে প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের নিজ কতব্য, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য। তাই বলা যেতে পারে যে, প্লেটোর ন্যায়বিচারের তত্ত্বের তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক।

Referece: https://lxnotes.com/plator-nay-dhormo-totto/


(Q: 2) Discuss the main characteristics of Greek Political institute.

Ans:




 


 


 

 


 

 

 


 


 

 


 

 


 



 (Q:3) প্লেটোর সাম্যবাদ সম্পর্কে আলোচনা করো

প্লেটোর সাম্যবাদ সম্পর্কে আলোচনা করোপ্লেটোর সাম্যবাদ সম্পর্কে আলোচনা করো

 মহান গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর অমন গ্রন্থ “The Republic” -এ বর্ণিত আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়নকল্পে তিনি দু’টি উপায়ের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করেন। এদের একটি হল শিক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যটি হল সাম্যবাদ তত্ত্ব । একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের জন্য যদিও প্লেটো শিক্ষাব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছেন তথাপি তিনি সাম্যবাদকে উপেক্ষা করতে পারেন নি। প্লেটোর সাম্যবাদ তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের এক অনবদ্য সৃষ্টি।


প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্ব

প্লেটো তাঁর কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়নকল্পে সাম্যবাদ তত্ত্বটি প্রদান করেন। তিনি তাঁর রিপাবলিক গ্রন্থের মধ্যে আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য এমন এক শাসক শ্রেণী বা অভিভাবক শ্রেণী বা অভিভাবক শ্রেণী গড়ে তোলার কথা বলেছেন যাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় জীবনে পূর্ণাঙ্গ ঐক্যের সঞ্চার করা। অভিভাবকদের সামগ্রিক চিন্তা ভাবনা ও কর্মসাধনা পরিচালিত হয় একমাত্র রাষ্ট্রীয় কল্যাণের লক্ষ্যে। রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে প্লেটো শাসকবর্গ ও যোদ্ধাশ্রেণীর জন্য ব্যক্তিগত পরিবার প্রথা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপের প্রস্তাব করেন। আর এ প্রস্তাবই প্লেটোর সাম্যবাদ তত্ত্ব হিসেবে অভিহিত।


প্লেটোর সাম্যবাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য

প্লেটোর সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য হল আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়ন করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। প্লেটো তাঁর সাম্যবাদ তত্ত্বে শাসক ও যোদ্ধাশ্রেণীর সম্পত্তি ও পরিবার উচ্ছেদের কথা বলেছেন। কারণ সম্পত্তি ও পরিবার শাসক ও যোদ্ধশ্রেণীকে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করে, যা আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়নে নানারূপ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তাই প্লেটো বলেছেন, একমাত্র সাম্যবাদের মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মকেন্দ্রিক চেতনা পরিবর্তিত হয়ে সমাজকেন্দ্রিক হতে পারে। তাঁর সাম্যবাদের মূল লক্ষ্য হল ব্যক্তির চিত্তকে সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ করে ন্যায়ধর্মের আনুগত্য করা।

প্লেটোর সাম্যবাদের প্রকারভেদ

প্লেটো তাঁর সাম্যবাদ তত্ত্বকে ‍দু’টি শ্রেণীতে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন। যথা-

ক. সম্পত্তি এবং

খ. পরিবার।

নিম্নে এগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো-

ক. সম্পত্তি

সম্পত্তি বিষয়ক সাম্যবাদের ক্ষেত্রে প্লেটো যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন সেগুলো নিম্নরূপ:

১) প্লেটো তার সাম্যবাদ ব্যবস্থায় শাসক এবং সৈনিক শ্রেণীর জন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রথার বিলোপ সাধন করতে চেয়েছেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি মানুষকে স্বার্থান্বেষী এবং লোভী করে তোলে। মানুষ ব্যক্তিগত লোভলালসার বশবর্তী হয়ে নিজের হিতাহিত জ্ঞান ও কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে ভুলে যায়। তাই অভিভাবক শ্রেণীর কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি না থাকাই বাঞ্ছনীয়।

২) অভিভাবক শ্রেণীর কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, এমনকি নিজস্ব বাড়িঘর ও স্থায়ী পত্নী থাকবে না। তারা বিভিন্ন নারীর সাথে অবাধে মিলিত হতে পারবে এবং এ অবাধে মেলামেশার ফলে সৃষ্ট সন্তান রাষ্ট্রীয় সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, প্রভু শ্রেণীর যদি নিজস্ব কোন সন্তান থাকে, তাহলে তারা সন্তানের মায়ায় জড়িয়ে যাবে এবং আদর্শ রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে।

৩) কোন ব্যক্তি প্রয়োজনাতিরিক্ত কিছু পাবে না। প্লেটোর মতে, “None should have any property of his own beyond what is absolutely necessary.” অর্থাৎ, সম্পত্তি বা সম্পদ আহরণের একমাত্র উদ্দেশ্য বেঁচে থাকা। তাই অভিভাবক শ্রেণীর বেঁচে থাকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রই স্থির করবে। তাদের নিজস্ব কোন সম্পত্তির দরকার নেই।

৪) প্লেটো বিশ্বাস করতেন, একই ব্যক্তির হাতে যদি রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে সে শাসক স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে। তাই তিনি রাজনীতিকে অর্থনীতির থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে চেয়েছেন।


খ. পরিবার

কেবলমাত্র সম্পত্তির উৎখাত হলেই সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে না, এর জন্য পরিবারেরও বিলুপ্তির প্রয়োজন বলে প্লেটো বিশ্বাস করতেন। পরিবারকে তিনি জ্ঞানীদের অপচয়ের স্থান বলে বর্ণনা করেন। কারণ-

১) স্ত্রী ও ছেলেমেয় তথা পরিবারের প্রতি মায়া শাসক শ্রেণীকে স্বার্থপর করে তোলে। পরিবার থাকলেই নিজের ছেলেমেয়ে ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি শাসকগণ পক্ষপাতিত্ব করবে। এজন্য শাসক শ্রেণীর পরিবার না থাকাই বাঞ্ছনীয়।

২) পরিবার স্ত্রীলোকদেরকে তাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব বিকাশে বাধা দান করে। মেয়েরা গৃহের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকে। সন্তান প্রসব ও তাদের লালনপালন ছাড়া অন্য কোন প্রকার কাজ তাদের থাকে না বললেই চলে। রাষ্ট্র এভাবে দেশের প্রায় অর্ধেক নাগরিকের অবদান থেকে বঞ্চিত হয়।

৩) নিয়ন্ত্রিত জন্ম ব্যবস্থার ফলে উন্নত ধরনের সন্তান উৎপাদন সম্ভব হবে। রাষ্ট্র বুদ্ধিমান লোক ও বুদ্ধিমতি মহিলা নির্ধারণ করবে। তাদের মিলনের ফলে যে সন্তানের জন্ম হবে সেও স্বাভাবিকভাবেই বুদ্ধিমান হবে। 

৪) পরিবারে যে শিক্ষা শিশুরা পায় তা অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সংকুচিত। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে তারা যে শিক্ষা পাবে সেটা হবে ব্যাপক ও বিস্তীর্ণ। রাষ্ট্রই তাদের শিক্ষার ভার গ্রহণ করবে। ফলে রাষ্ট্রের ঐক্য দৃঢ়তর হবে এবং সন্তান সন্ততির মধ্যেও ঐক্য প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে।

Reference: https://sahajpora.com/news/3169/

(Q:4)  প্লেটোর সাম্যবাদের সাথে আধুনিক সাম্যবাদের তুলনা করো


প্লেটোর সাম্যবাদের সমালোচনা এবং আধুনিক সাম্যবাদের সাথে এর তুলনা
প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ পুস্তকে আদর্শরাষ্ট্রের রূপায়নের যথার্থমাধ্যম হিসাবে অভিবাবক
শ্রেণীর জন্য এক বিশেষ ধরনের সাম্যবাদের পরিকল্পনা করেছিলেন। আধুনিক সাম্যবাদের
দৃষ্টিতে তাঁর কল্পিত এ সাম্যবাদ যথার্থ নয়। প্লেটোর সাম্যবাদ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে
সমালোচিত হয়েছে। যথা:
● প্লেটোর সাম্যবাদ ছিল শ্রেণী ভিত্তিক। রাষ্ট্রের তিনটি শ্রেণীর মধ্যে শুধুমাত্র অভিভাবক
শ্রেণীর ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য ছিল। কিন্তুআধুনিক সাম্যবাদ হলো শ্রেণীহীন, অর্থাৎ সকলের
জন্য।
● আধুনিক সাম্যবাদ শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত, কিন্তুপ্লেটোর
সাম্যবাদ শ্রমজীবী মানুষের শোষণ সম্পর্কে নীরব বরং তা রাষ্ট্রের সু-শাসনের লক্ষ্যে
পরিচালিত। অর্থাৎ প্লেটোর সাম্যবাদ অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক।
● প্লেটো তাঁর সাম্যবাদী পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্য আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু
এরিস্টটল মনে করতেন প্লেটোর সাম্যবাদ বরং রাষ্ট্রের ঐক্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে
পারে।
● প্লেটোর সাম্যবাদ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বিরুদ্ধ। প্রত্যেক মানুষেরই সহজাত ও প্রাকৃতিক
আধিকার থাকা উচিত। অভিভাবক শ্রেণীর জন্য সম্পত্তি ও পরিবার প্রথার বিলুপ্তির প্রস্তাব
করে প্লেটো তাঁদের প্রতি অবিচার করেছেন।
● এরিস্টটল মনে করেছেন যৌথ মালিকানায় শিশুরা ¯েœহ বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠবে, ফলে
তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হয়ে তারা রাষ্ট্রের জন্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হবে। অভিভাবক শ্রেণীর কোন ব্যক্তিগত পরিবার থাকবে না। স্ত্রীলোক এবং সন্তান তাঁদের সকলের বলে গণ্য হবে
● প্লেটোর সাম্যবাদী পরিকল্পনার সমালোচনা করতে গিয়ে এরিস্টটল বলেছেন ব্যক্তিত্ব
বিকাশের জন্য মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকা প্রয়োজন। সম্পত্তিহীন মানুষ মূল্যহীন
মানুষের সামিল।
● এরিস্টটল আরও মনে করেছেন যে, যৌথ মালিকানা ব্যবস্থা মানুষের প্রকৃতি বিরুদ্ধ এবং
এতে উৎপাদন ব্যহত হয়। এতে কেউই মনোযোগ দেন না, ফলে রাষ্ট্রও সম্পদ এ সব
কিছুই দারুন অবহেলার লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে। বলা বাহুল্য, যৌথ মালিকানার লক্ষ্যে
পরিচালিত আধুনিক সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তার বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়।
সারকথা
প্লেটো তাঁর আদর্শরাষ্ট্রের অভিভাবক শ্রেণীর জন্য এক ধরনের সাম্যবাদী জীবন ব্যবস্থার
কথা বলেছিলেন। যেখানে অভিভাবক শ্রেণীর কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার পরিজন
থাকতে পারবে না। তাঁরা রাষ্ট্রের খরচে ব্যারাকে থাকবেন, এবং একই সাথে খাদ্য গ্রহণ
করবেন। শাসকদেরকে স্বার্থও পক্ষপাতহীন তথা সু-শাসক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই
তিনি এ পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তবে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর এ পরিকল্পনা সামালোচিত হয়েছে।

Sources: https://qualitycando.com/hsc_civics_viewfinal.php?id=99

(Q: 5) প্লেটোর শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো

ভূমিকাঃ প্লেটো তার ন্যায়ধর্মভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্রের বাস্তবায়নে শিক্ষার ওপর সবিশেষ গুরুত্ব আরােপ করেছেন। নিঃস্বার্থ মন নিয়ে সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্রের কর্তব্য সম্পাদনের উপযােগী করে নাগরিকদের গড়ে তােলার উদ্দেশ্যেই প্লেটো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একটি সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার উদ্ভাবন করেন। প্রফেসর বার্কার প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থাকে সামাজিক ন্যায় ধর্ম ও সত্যানুসন্ধানের একটি মাধ্যম বলেছেন।

শিক্ষার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতিঃ
 প্লেটোর মতে, শিক্ষার প্রধানতম লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তিকে তার পুরােপুরি সত্তায় বিকশিত করা এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে তার নির্ধারিত ভূমিকা পালন করার উপযােগী করে তােলা। তার মতে আদর্শ রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা ইচ্ছাধীন হতে পারে না। অভিভাবকদের জন্য শিক্ষা অবশ্যই বাধ্যতামূলক হতে হবে। প্লেটো বিশ্বাস করতেন যে, স্বাভাবিক যােগ্যতার দিক দিয়ে নারী ও পুরুষের মধ্যে মূলগত কোনাে পার্থক্য নেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে তারা অভিন্ন।

শিক্ষার গুরুত্বঃ প্লেটো বলেন, ধাতুর মধ্যে স্বর্ণ যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ তদ্রুপ মানবকুলের মধ্যে দার্শনিক প্রভুরাও সর্বশ্রেষ্ঠ। আর দার্শনিক প্রভু গড়ে তােলার জন্য চাই উপযুক্ত শিক্ষা। একমাত্র সুশিক্ষায় শিক্ষিত দার্শনিক প্রভুরাই পারেন আদর্শ রাষ্ট্রের সফলতা আনয়ন করতে। শুধু তার ধারণাতেই নয় বরং সামগ্রিকভাবে গ্রীকদের ধারণায়ও শিক্ষাকে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

শিক্ষার কারিকুলাম ও বিভিন্ন স্তরঃ
 প্লেটোর শিক্ষা পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে সর্বাত্মক। প্লেটো তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রধানত দু'টো ভাগে ভাগ করেছেন। যথা- (ক) প্রাথমিক শিক্ষা ও (খ) উচ্চ শিক্ষা। এ বিভাগ মূলত বয়সের ভিত্তিতে গঠিত হয় এবং বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রকম শিক্ষাদান করা হয়।

(ক) প্রাথমিক শিক্ষাঃ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার লক্ষ্য হবে শিশুর অন্তরে মহৎ ভাবমূর্তি সৃষ্টি করা। জন্মের পর হতেই প্রতিটি শিশু রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা গ্রহণ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শাসক ও শাসিতের সন্তানগণকে একই প্রকার শিক্ষা লাভের সুযােগ দান করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রধানত, দুটি পর্যায়ে বিভক্ত থাকবে। যেমন- (১) সঙ্গীতমূলক শিক্ষা শৈশব ১৮ বছর (২) ব্যায়ামমূলক শিক্ষা ১৯-২২ বছর।

(১) সঙ্গীতমূলক শিক্ষাঃ 
এই স্তরে শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষাদাতাগণ শিশুর অপরিণত মানসিক বৃত্তিগুলি বিকশিত করে তুলতে সাহায্য করে। এই পর্যায়ে হালকা ও সহজবােধ্য কবিতা, গল্প পাঠ, সংগীত চর্চা ও প্রাথমিক গণিত চর্চার মধ্য দিয়ে শিশুরা প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের সুযােগ লাভ করবে। এই শিক্ষা কিশােরদের নিকট আনন্দময় করে তােলা উচিত। প্লেটোর মতে জবরদস্তিমূলক শিক্ষা মনের কোনাে উন্নতি বিধান করতে পারে না।

(২) ব্যায়ামমূলক শিক্ষাঃ এই পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীগণ শারীরিক ব্যায়াম বা দেহচর্চা ও সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে আত্মসংযম, শৃংখলাবােধ, নিয়মানুবর্তিতা, পরিশ্রমী হবার গুণাবলী অর্জন করতে সমর্থ হবে। এই সময়ে অন্য কোন বিষয়ে অধ্যয়নের সুযােগ থাকবে না। প্রাথমিক শিক্ষার শেষে একটি বাছাইমূলক পরীক্ষা হবে। এই পর্যায়ে যারা আধকতর ধীশক্তি, প্রজ্ঞা, শিক্ষার প্রতি আসক্তি প্রদর্শনে সক্ষম বলে বিবেচিত হবে তারাই উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে।

(খ) উচ্চশিক্ষাঃ 
প্লেটো উচ্চশিক্ষাকে ৩টি স্তরে ভাগ করেছেন যা নিম্নে আলােচনা করা হলাে –

(১) ২১-৩০ বছরঃ উচ্চতর গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বাস্তব সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেয়া হবে। এটাই এই পর্যায়ের শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। এই দশবছর শিক্ষাকালে গণিত শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। শিক্ষার পরিসমাপ্তি এখানেই ঘটবে না।

(২) ৩০-৩৫ বছরঃ পূর্বের পর্যায়গুলাে যারা সাফল্যের সাথে অতিক্রম করতে পারবে সেই কৃতী শিক্ষার্থীদের এই ৫ বছর একাগ্রভাবে উচ্চতর দর্শন, তর্কশাস্ত্র, অধিবিদ্যা অধ্যয়ন করতে হবে। এই সকল বিষয় অধ্যয়নের ফলে শিক্ষার্থীরা সকল জ্ঞানের মধ্যে কার ঐক্য সূত্র কী তা জানার প্রয়াস পায়। এর পূর্বে উচ্চতর দর্শন সম্পর্কে কোনাে শিক্ষা দেয়া হবে না। কারণ পরিপক্ক বয়স ব্যতীত দর্শনের গুরুত্ব উপলব্দি করা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভবপর নয়।

(৩) ৩৫-৫০ বছরঃ 
এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীকে সরকারী কার্যে ও যুদ্ধকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হবে। এই দীর্ঘ ৫০ বছরের জ্ঞান সাধনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীগণ স্বাভাবিকভাবেই দার্শনিক হিসেবে গুণাবলী পূর্ণরূপে আয়ত্ত করতে সক্ষম হবে। তারা এবার তাদের সমস্ত শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরম উত্তমের জ্ঞান লাভ করবে। পরম উত্তমের জ্ঞানই হচ্ছে শাসক হওয়ার একমাত্র শর্ত।

পরিশেষঃ পরিশেষে বলা যায় যে, প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে এতসব সমালােচনা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা সম্পর্কে তার মত মৌলিক গবেষণা এ যাবৎ আর কোন চিন্তাবিদ করতে পারেননি। তার এই শিক্ষাব্যবস্থা সত্যিই এক অনবদ্য অবদান। প্লেটোর শিক্ষাব্যবস্থাকে গুণগত দিক থেকে নয় পরিমাণগত দিক হতে কিঞ্চিত পরিবর্তন করলেই তা বর্তমানের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার এবং সর্বকালের সকল শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রয়ােগযােগ্যতা লাভ করবে।



(Q:6) প্লেটোর রিপাবলিক গ্রন্থের নীল নকশা আলোচনা করো / 

‘প্লেটোর রিপাবলিক গ্রন্থটি সর্বাত্মকবাদের একটি নীল নকশা’- ব্যাখ্যা কর


Answer:

ভূমিকাঃ বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতি সাধনে যে সব চিন্তানায়কের অবদান চিরভাস্বর তাদের মধ্যে গ্রীক চিন্তাবিদ প্লেটো ছিলেন অন্যতম। এখানে অধ্যাপনার সময় তিনি ৩৬টি দর্শনমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে ‘দি রিপাবলিক' একটি সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। আর এ গ্রন্থে তিনি সর্বাত্মকবাদের নীলনকশা এঁকেছেন। একারণেই আমাদের আলােচ্য বিষয় হলাে এ সর্বাত্মকবাদ।

সর্বাত্মকবাদঃ সর্বাত্মকবাদ হলাে এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে মানুষের জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত, ধর্মীয়, কৃষ্টিগত, শিল্প-বাণিজ্য, আত্মিক ও বৈষয়িক সবকিছুই রাষ্ট্রায় কতৃত্বের নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। অর্থাৎ সর্বাত্মকবাদ বলতে বুঝায় এমন এক শাসনব্যবস্থা-
(১) যেখানে আইনের ভূমিকা নেই অর্থাৎ আইনের শাসন নেই।
(২) শাসকগণ তার কর্ম-অপকর্মের জন্য কারাে নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।
(৩) সর্বাত্মকবাদে সমস্ত শাসনক্ষমতা এক বা একাধিক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত থাকে, যেখানে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
(৪) শাসন পরিচালনায় যেখানে জনগণের কোন প্রতিনিধিত্ব থাকে না।
মােটকথা সর্বাত্মকবাদ হচ্ছে ফ্যাসিবাদের এক বিশেষ রূপ- ‘কিছুই রাষ্ট্রের উর্ধ্বে নয়, বাইরেও নয়, বরং সর্বকিছুই রাষ্ট্রের জন্য।'

সর্বাত্মকবাদের প্রবক্তারূপে প্লেটোঃ
 'The Republic' গ্রন্থের আলােচনার প্রেক্ষিতে প্লেটোকে সর্বাত্মকবাদের প্রথম প্রবক্তা বলার কারণসমূহ নিম্নরূপ-

(১) শাসক শ্রেণীঃ প্লেটো তার মূল্যবান গ্রন্থে একটি উত্তম রাষ্ট্রের কল্পনা করেছেন। এই রাষ্ট্রের কর্ণধার হল শাসক শ্রেণী। এই শাসক শ্রেণীরা হলেন রাষ্ট্রের পরিচালক। তারা তাদের খেয়াল খুশী অনুসারে কাজ করতে পারবে না, যা সর্বাত্মকবাদকে সমর্থন করে।

(২) উৎপাদক শ্রেণীঃ প্লেটো তার রিপাবলিক গ্রন্থে উৎপাদক শ্রেণী সম্পর্কে আলােচনা করেছেন। তারা তাদের দৈহিক পরিশ্রমের দ্বারা রাষ্ট্রের প্রয়ােজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করবে। কিন্তু তারা তাদের ইচ্ছামত দ্রব্য সামগ্রী ভােগ করতে পারবে না। রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত দ্রব্যাদি তারা ভােগ করবে। এক্ষেত্রেও তার বক্তব্যে সর্বাত্মকবাদের সমর্থন পাওয়া যায়।

(৩) যােদ্ধা শেণীঃ
 তারা দেশকে সর্বপ্রকার ভীতি থেকে মুক্ত রাখবে। যােদ্ধা শ্রেণীর এই গুরু দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তাদের সব কিছু রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।

(৪) ন্যায়বিচারঃ তার ন্যায়বিচার আলােচনায় দেখা যায় যে, যারা রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ তারা কোন রাজনৈতিক সুযােগ সুবিধা পাবে না। তারা কেবল অপর শ্রেণীর লােকের জন্য কাজ করবে। এখানে প্রকৃত ন্যায়বিচার আসতে পারে না। এখানেও তিনি সর্বাত্মকবাদের প্রবক্তা হিসেবে অভিহিত।

(৫) শিক্ষা ব্যবস্থাঃ প্লেটোর রিপাবলিক গ্রন্থে উল্লেখিত শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সর্বাত্মকবাদের আলামত পাওয়া যায়। অনেকে বলেন, তিনি তার এই রাষ্ট্রে আদর্শ শাসক গড়ে তুলতে চেয়েছেন কিন্তু আদর্শ লােকের কোন লক্ষণ পাওয়া যায় না। সবশ্রেণীর লােক এই শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না।

(৬) দাস প্রথাঃ
 তিনি ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দাসে পরিণত করেছেন। তার মতে রাষ্ট্র হল সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আর ব্যক্তি হল তার অধীনস্ত দাস। ব্যক্তিগত অধিকার বলতে তাদের কিছু নেই।

(৭) আদর্শ রাষ্ট্রঃ প্লেটো মনে করতেন রাষ্ট্র পরিচালনা করা কোনাে অধিকারের ব্যাপার নয়, বরং তা গুণের ব্যাপার। প্লেটো তাই আদর্শ রাষ্ট্রের পরিচালনার ভার দিতে চেয়েছেন জ্ঞানী-গুণীর হাতে। তাই তিনি দার্শনিক রাজার হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে উত্তম শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছেন।

পরিশেষঃ পরিশেষে বলা যায়, প্লেটো তার The Republic গ্রন্থে যে আলােচনা করেছেন, মূলত এর মাধ্যমে তিনি সর্বাত্মকবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তার এই গ্রন্থটিকে সর্বাত্মকবাদের নীলনকশা বলা হয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Tasnim Jahan Miss (English Exam Topic)

Fazlul Haque Polash Sir Exame Topic

Mujahidul Islam Sir Exam Topic